সোমবার বিকেলে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষকৃত্যে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। স্কুলের শৈশবের বন্ধুরা তাঁর শেষ বিদায়ের জন্য পৌঁছনোর পর শ্মশানের গেটে তাঁদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। অভিযোগ, শুধু পরিচিত তারকাদেরই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বন্ধুরা ক্ষোভে ফুঁসতে থাকেন। ভিড় জমে থাকা বিজয়গড় চত্বরেও অনেকে অবাক হয়ে পরিস্থিতি দেখছিলেন। উপস্থিত ছিলেন রাহুলের বহু পরিচিত শিল্পী ও বন্ধু।
শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, চুর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, গৌরব-রিধিমা, অনন্যা চট্টোপাধ্যায়, রুকমা রায়, অঙ্কুশ, রুদ্রনীল ঘোষ এবং ইন্দ্রাশীস আচার্যসহ আরও অনেকে। বন্ধুরা জানান, শ্মশানে ঢোকার জন্য তাঁদের শুরুতে আটকে রাখা হয়। যদিও পরে তারা জোর করে প্রবেশ করতে সক্ষম হন, কিন্তু ভিতরে ঢোকার পরও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। শ্মশানের কিছু অংশে শুধুমাত্র তারকাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল।
রুকমা রায়সহ কয়েকজন তারকাকে বিশেষভাবে চুল্লির সামনে যেতে দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপে রাহুলের শৈশবের বন্ধুদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। তাঁরা দাবি করেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে রাহুলকে চিনি। আমাদেরও ভিতরে প্রবেশের অধিকার থাকা উচিত। শুধু সেলেবদের দেখে ঢোকা ঠিক হয়নি।” বন্ধুরা মনে করেন, শেষবারের বিদায়ের জন্য তারা যথেষ্ট সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখেন।
রবিবার রাতেই তালসারিতে পৌঁছেছিলেন রাহুলের স্কুলের বন্ধুরা। ময়নাতদন্তের পর তাঁদেরই সাহায্যে অভিনেতার দেহ কলকাতায় আনা হয়। বন্ধুরা জানান, “গতকাল রাত থেকে আমরা এখানে রয়েছি, কিন্তু শুটিং করছিলেন অন্যরা। আজ আমরা বাদ পড়ছি?” এ ধরনের অনুভূতি অনেকের মধ্যে বিরক্তি ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। বন্ধুরা বলছেন, শেষ বিদায়ের সময় এমন অশান্তি মোটেও কাম্য নয়।
আরও পড়ুনঃ “বেরিয়ে এলাম জল থেকে, শরীর তুলেছে অবশ্য অন্যরা…বিয়াল্লিশ তো যাবার বয়সও না” আগাম প্রস্তুতি, ৮ বছর আগেই নিজের পরিণতি লিখে গিয়েছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়! কল্পনা না ভবিষ্যৎবাণী? এমন কাকতালীয় কি সম্ভব? ভাইরাল সেই লেখা, গায়ে কাঁটা ধরিয়েছে নেটপাড়ার!
অভিযোগ এবং বিশৃঙ্খলার মধ্যেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শৈশবের বন্ধুদের মতে, প্রয়াত রাহুলের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি। শ্মশানের ব্যবস্থাপনা ও বিশেষ অনুমতির নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বন্ধুরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর কোনো অনুষ্ঠানে না ঘটুক।






